Archives for হাসির গল্প

অনিদ্রা

Bookmark

Share

অনিদ্রায় ভুগে ভুগ প্রায় উন্মাদ বন্ধুকে দেখে অন্য বন্ধ বলল, এ কী হাল হয়েছে তোমার!
– কী করব, কিছুতেই যে ঘুম আসে না।
– ডাক্তার কী বলেন?
– আর ডাক্তার- তাদের কথায় কি না করেছি! গাদা গাদা বড়ি গিলেছি, গরম দুধ খেয়েছি হটবাথ নিয়েছি, কিছুই হয় নি।
– আচ্ছা, সেই পুরনো ওষুধ ভেড়া গোনা সেটা করে দেখেছ?
– ভালো কথা মনে করিয়েছ। আজই আমি শুয়ে শুয়ে ভেড়া গুনব।

পরদিন দেখা হতেই বন্ধুকে জিজ্ঞেস করল, কি, ফল পেয়েছ?
– নারে ভাই! দু’ হাজার ভেড়া গুনেও যখন ক্লান্ত হলাম না তখন ভেড়া জবাই করে চামড়া ছাড়াতে লাগলাম। সেই চামড়া দিয়ে দু’ হাজার ওভার কোট বানালাম। এই দুই হাজার ওভার কোটের লাইনিঙের কাপড় পাব কোথায়? আর তা ভাবতে ভাবতেই ভোর হয়ে গেল। ঘুমাতে পারলাম কই?

ব্রিফকেস হাতে

Bookmark

Share

ব্রিফকেস হাতে রাস্তা দিয়ে যাচ্ছিল এক লোক। সার্জেন্ট তার পথ আটকালো। নাম, ঠিকানা জিঞ্জেস করে জানতে চাইল, ব্রিফকেসের ভিতর কী আছে।
লোকটি বলল, টাকা।
ব্রিফকেস খুলে লোকটি দেখল, সত্যিই টাকা। অনেক টাকা।
-এত টাকা কোথায় পেলে?
-জুয়া খেলে।
জুয়া খেলে এত টাকা পাওয়া যেতে পারে সার্জেন্টা তা বিশ্বাস করতে চাইল না।
লোকটি বলল, ঠিক আছে আমি এখনই প্রমাণ করছি। ওই যে দূরে গাছটা দেখা যাচ্ছে ওটা ছুঁয়ে ফিরে আসার আগে তুমি যদি তোমার প্যান্ট আর জুতা খুলতে পার তাহলে পঞ্চাশ টাকা পাবে, রাজি?
নিশ্চিত জিত জেনে সার্জেন্ট রাজি হয়ে গেল। লোকটি দৌড় দিল। ফিরে আসার আগেই সার্জেন্ট তার প্যান্ট, জুতা খুলে ফেলল। বাজিতে জিতে সার্জেন্ট বলল,
-তোমার মত এত বোকা লোক আমি আমার জীবনে দেখিনি।

লোকটি মুচকি হেসে আরেকটু দূরে দাঁড়িয়ে থাকা কিছু লোককে দেখিয়ে বলল, ওখানে কত জন লোক আছে বল তো?
-জনা চল্লিশেক।
– হল না, ছেচল্লিশ জন। ওদের সঙ্গে আমার বাজি হয়েছিল যদে তোমার প্যান্ট খোলাতে পারি তা হলে প্রত্যাকে পাঁচ টাকা করে দিবে। এখন বিশ্বাস হয়েছে তো যে, জুয়া খেলেই আমি এত টাকা পেয়েছি!

রাত কাটানোর জায়গা

Bookmark

Share

এক পথিক রাত কাটানোর জন্য জায়গা খুঁজছে। এক বাড়িতে গিয়ে বলল, ‘একটু থাকার জায়গা হবে কি?’
– না, আমার ঘরে যুবতী মেয়ে আছে।
পথিক এগিয়ে আরেকটি বাড়িতে গেল।
– তোমার ঘরে কি একটু থাকার জায়গা হবে?
– না না, আমার ঘরে সেয়ানা মেয়ে আছে।
এভাবে আরো কয়েক বাড়িতে গিয়ে থাকার জায়গা চেয়ে সবার কাছ থেকে একই উত্তর পেয়ে খুব হতাশ হয়ে সবশেষ বাড়িটাতে গিয়ে বলল,
-তোমার ঘরে কি যুবতী বা সেয়ানা মেয়ে আছে?
– কেন? তা দিয়ে আপনার দরকার কী?
– না মানে, রাতটা একটু কাটাতে চাই…
– তবে রে….দাঁড়া দেখাচ্ছি মজা!…

তিন চাপাবাজ

Bookmark

Share

তিন চাপাবাজ চাপাবাজি করছে।
প্রথম চাপাবাজঃ জানিস, যে বার চাঁদে গিয়েছিলাম, সেখানকার মানুষগুলো এত উন্নত- তারা এমন একটু বিল্ডিং বানিয়েছে যে একটি বোকা ছেলে একদিন বিল্ডিং এর ছাদ থেকে পড়ে গিয়েছিল। ছেলেটির মাটিতে পড়তে সময় লেগেছে পাঁচ বছর।

দ্বিতীয় চাপাবাজঃ দূর, এ আর এমন কী! সেবার আমি গিয়েছিলাম মঙ্গলগ্রহে, সেখানকার মানুষগুলো আরো উন্নত। তারা এমন একটি বিল্ডিং বানিয়েছে যে একবার একটু শিশু ওই বিল্ডিংটার ছাদ থেকে পড়ে গিয়েছিল। মাটিতে পড়ার সময় দেখা শিশুটির মুখের দাড়ি, গোঁফ সাদা হয়ে গেছে।

তৃতীয় চাপাবাজঃ দূর, এটা কোন উঁচু বিল্ডিং হল! আমি একবার গিয়েছিলাম বৃহস্পতিতে। সেখানকার শহরের সবচেয়ে উঁচু বিল্ডিং থেকে একদিন একটা বানর পড়ে গিয়েছিল। মাটিতে পড়ার পর দেখা গেল বানরটা মানুষ হয়ে গেছে।

চারিদিকে হৈচৈ

Bookmark

Share

চারদিকে হৈচৈ পড়ে গেল। মেয়ের মা হাউমাউ করে কাঁদতে লাগল। হঠাৎ একজন যুবক জাহাজের ডেক থেকে নদীতে ঝাঁপিয়ে পড়ল এবং অনেক্ষণ পরেই মেয়েটিকে নিয়ে উপরে উঠে এল। সঙ্গে-সঙ্গে ধন্য ধন্য পড়ে গেল। জাহাজের ক্যাপ্টেন তৎক্ষণাৎ একটা ছোটখাটো সংবর্ধনা সভার আয়োজন করে ফেললেন। কিন্তু যাকে নিয়ে এত হৈ চৈ সে কোন কথা বলছে না। ভিড়ের মাঝে কাকে যেন খুঁজে বেড়াচ্ছে।

ক্যাপ্টেন বললেন, কী ব্যাপার বলুন তো? আমরা আপনার সম্মানে সভার আয়োজন করেছি আর আপনি কী খুঁজে বেড়াচ্ছেন?

যুবক বলল, আমি খুঁজছি সেই লোকটাকে যে লোকটা আমাকে ধাক্কা দিয়ে নদীতে ফেলে দিয়েছিল।

সাইকিয়াট্রিস্টের কাছে

Bookmark

Share

সাইকিয়াট্রিস্টের কাছে একজন গোমড়ামুখো লোক এসে বললেন, “ডাক্তার সাহেব, আমার কিছুই ভাল লাগে না। ক্ষুধা পায় না, দুশ্চিন্তায় ঘুম হয় না, সব সময় মন উদাস হয়ে থাকে।”

ডাক্তার পরীক্ষা করে বললেন, আপনার কোন দৈহিক অসুখ নেই। আপনি এক কাজ করুন, আপনি মজার লেখক আহসান হাবীবের গল্পের বই পড়ুন, হাসতে-হাসতে আপনার শরীর মন তাজা হয়ে উঠবে।

লোকটি গম্ভীর মুখে উঠে দাঁড়ালেন। ডাক্তারকে ফি দিয়ে বললেন, “ধন্যবাদ, চলি, কিন্তু আপনার পরামর্শ আমার কোন কাজে আসবে না।”

ডাক্তার বললেন, “আগে আহসান হাবীবের লেখা পড়ুন, কাজ না হলে তার পরে বলবেন।”

লোকটি বললেন, “তার আর দরকার নেই। আমিই আহসান হাবীব।”

পঞ্চম বিবাহবার্ষিকী

Bookmark

Share

কয়েকজন বন্ধু তাদের একজন বন্ধুর পঞ্চম বিবাহবার্ষিকী উদযাপন করছিল। খাবার টেবিলে খাবার সাজানো হয়ে গিয়েছিল, প্লেটও টেবিলে রাখা হয়ে গিয়েছিল। এমন সময় বন্ধু পত্নী তার স্বামীকে বলল, শোন, ভেতরের আলমারিতে যে রুপোর চামচগুলো রাখা আছে ওগুলো নিয়ে এস।
বন্ধু বলল, আমি ওই চামচগুলো আনব না, তুমি অন্য চামচ দিয়ে কাজ চালিয়ে নাও।
– তুমি তোমার বন্ধুদের এত নীচ মনে কর? ভয় পাচ্ছ যে ওরা চামচগুলো চুরি করে নিয়ে যাবে?
– চুরি করে নিয়ে যাবে না, চামচগুলো চিনে ফেলবে!

ব্যবসার কাজে বাইরে

Bookmark

Share

ব্যবসার কাজে বাইরে এসে বউয়ের জন্য মনটা কেমন করতেই রহমান সাহেব হোটেলের ফোনটা তুলে অপারেটরকে নাম্বারটা দিতে বললেন। ফোন ধরল বাড়ির কাজের লোক।
– তোর বেগম সাহেব কে দে।
– তিনি তো এখন শোবার ঘরে অন্য একজন লোকের সঙ্গে শুয়ে আছেন।
– কী বললি! অন্য লোকের সঙ্গে। শোন আমার বসার ঘরের ড্রয়ারে একটি রিভলবার আছে ওটা দিয়ে এক্ষুনি দুটোকেই শেষ করে দে।
– মাফ করবেন, আমি পারব না স্যার।
– তাহলে কিন্তু আমি এখনই বাড়ি আসব। ও দুটোকে তো শেষ করবই, তোকেও শেষ করব।
– ঠিক আছে, যাচ্ছি স্যার।
– যা, আমি ফোন ধরে আছি।
কিছুক্ষন পর ওপাশ থেকে বলল, ‘কাজ শেষ স্যার।’
– দুটোকেই মেরেছিস?
– জি স্যার, রিভলবারটা সুইমিংপুলে ফেলে দিয়েছি।
– সুইমিং পুল! সুইমিং পুল এল কোথ্থেকে? হ্যালো, এটা কি ৯৮৭৬৫৪১২৫?
– সরি, রং নাম্বার!

রেস্তোরাঁয় গোলমাল

Bookmark

Share

এক বেসামাল ব্যক্তি একটা রেস্তোরাঁয় গোলমাল করায় চার জন বেয়ারা তাকে ঘাড় ধরে ফুটপাতে ছুড়ে ফেলে দিল।
লোকটি তৎক্ষণাৎ উঠে দাঁড়িয়ে চিৎকার করে বলল, আমাকে এভাবে হেনস্থা করা! আমি দেখিয়ে দিচ্ছি!
বাইরে লোকজন ততক্ষণে জমে গেছে।
লোকটি বলল, আমি ভেতরে গিয়ে ওই চার বেয়ারাকে এক এক করে রাস্তায় ছুঁড়ে ফেলে দেব, আপনারা শুনুন।
লোকটি হুড়মুড় করে রেস্তোরাঁয় ঢুকে পড়ল। একটু পরেই একজন ফুটপাতে এসে মুখ থুবড়ে পড়ল।
সমবেত লোকজন বলল, এই হল এক!
পড়ে থাকা লোকটির ক্ষীণ কণ্ঠস্বর শোনা গেল, এক নয়, ওরা আমাকেই আবার ছুড়ে ফেলেছে!

দামি খাবার

Bookmark

Share

রেস্তোরাঁয় ঢুকে চার পাঁচ পদের দামি খাবার খেয়ে একটা পান মুখে দিয়ে ভদ্রলোক বেয়ারাকে ডেকে বললেন, “এখানকার ম্যানেজারকে একবার ডেকে দাও”।

বেয়ারা ম্যানেজারকে ডেকে দিল। ম্যানেজার আসল।

ভদ্রলোক বললেন, আপনি আমাকে চিনতে পারেন? দুই বছর আগে আমি এই রেস্তোরাঁয় খাওয়ার সময় সামান্য কুড়ি টাকা দিতে পারি নি। মনে পড়ে, সে সময় আপনি বেয়ারাদের দিয়ে আমাকে মেরে রাস্তায় বের করে দিয়েছিলেন?

– আমাদের মাফ করবেন স্যার, সে সময় ভুল করে আপনাকে…..
-ক্ষমা! ক্ষমার কথা হচ্ছে না। আপনি আপনার বেয়ারাদের ডাকুন। আজও আমার কাছে কিছু নেই।

Page 1 of 6:1 2 3 4 »Last »