Archives for গোপাল ভাঁড়

দাওয়াত না দিয়ে দায়িত্বহীনতা

Bookmark

Share

গোপাল খেতে খুব পছন্দ করত। তো একবার বাড়ি ফেরার পথে দেখে এক বাড়িতে বিয়ে হচ্ছে। খাওয়া দাওয়ার আয়োজন চলছে মন্দ না। গোপাল চট করে সেখানে ঢুকে পাত পেতে বসে পড়ল। খেতে শুরু করল। এমন সময় বিয়ে বাড়িত লোকজন খেয়াল করল এ লোকটা তো অচেনা। এ তো দাওয়াতি নয়! এ কোথ্থেকে এল? তখন একজন তাকে চেপে ধরল –
– এই দাদা, আপনি তো আমাদের দাওয়াতি নন, খেতে বসলেন যে বড়?
গোপাল ভাঁড়কে বিন্দুমাত্র বিচলিত মনে হল না। সে দিব্যি খেতেই থাকল। এবং খেতে খেতেই উত্তর দিল –
– দেখুন, আপনারা আমাকে দাওয়াত না দিয়ে দায়িত্বহীনতার পরিচয় দিতে পারেন। কিন্তু আপনাদের পড়শি হিসেবে আমি তো আর দায়িত্বহীনতার পরিচয় দিতে পারি না। কী বলেন, তাই নিজেই চলে এসেছি!
বলে গোপাল ভাঁড় ঠিক মনোযোগ দিয়ে দিব্যি খেতে শুরু করল। তখন উত্তর শুনে সবাই চমৎকৃত! উল্টো তখন সবাই তাকে তোষামোদ করে খাওয়াতে লাগল।

সুসংবাদ

Bookmark

Share

গোপাল ভাঁরকে এক লোক বলল –
– গোপাল ভাঁড় তোমার জন্য একটা সুসংবাদ আছে।
– তোমার পাশের বাড়িতে দেখলাম বিরাট খানাপিনার আয়োজন করা হয়েছে ।
– তাতে আমার কী?
– না দেখলাম সেই বাড়ি থেকে খানাপিনা নিয়ে তোমার বাড়িতেও গেল।
– তাতে তোমার কী?

কেনা গোলাম হয়ে থাকব

Bookmark

Share

একবার এক লোক গোপালের কাছে কিছু টাকা ধার চেয়ে বলল,
– ভাই, টাকা ক’টার খুব দরকার। দিলে সারা জীবনের জন্য তোমার কেনা গোলাম হয়ে থাকব। তখন চিন্তিত গোপাল বলে উঠল, –
– ‘দেখ ভাই বেতন দিয়েই গোলাম পোষার ক্ষমতা নেই, কিনে গোলাম পুষব কীভাবে বল?’

গাছে কাঁঠাল, গোঁফে তেল

Bookmark

Share

কৃষ্ণনগর রাজদরবারের কাছেই এক ফলের বাগান ছিল। সেই বাগানে প্রচুর কাঁঠাল ধরেছিল । গোপালের সেই কাঁঠাল খাওয়ার ইচ্ছা হওয়ায় সে এক ফন্দী বের করল। দরবারে বসবার সময় তার লম্বা গোঁফ জোড়ায় অনেকটা তেল মাখাল। এত বেশি তেল মেখেছিল যে সেই তেল টপ টপ  করে পড়ছিল। রাজা কৃষ্ণচন্দ্র তা লক্ষ্য করলেন এবং বলে উঠলেন, গোপাল, তুমি কুলুদের ছেলে?
গোপাল হঠাৎ রুষ্ট হয়ে বলল, মহারাজ, আপনি রাজসভায় বসে অসভ্যের মত কথা বলছেন কেন?
রাজা বললেনঃ আমি ঠিকই বলেছি। গোঁফ দিয়ে তেল টপকাচ্ছে কেন?
এবার গোপাল হেঁসে বলল, মহারাজ, ঐ যে গাছে কাঁঠাল পেকেছে, তাই আমি গোঁফে তেল মেখে রেখেছি। জানেন না, লোকে বলে গাছে কাঁঠাল গোঁফে তেল!
রাজা এ কথা শুনে হেসে উঠলেন এবং গোপালকে তার পছন্দ মত কাঁঠাল নিয়ে যেতে আদেশ দিলেন।

সে বছর ডেকেছিলে কেন?

Bookmark

Share

গোপালের দোতলা বাড়ি তৈরি হলে সে তার প্রতিবেশী এক ভাইপোকে ছাদের উপর দাঁড়িয়ে ডাকতে লাগলো, “রাখাল, ও রাখাল, কী করছিস ওখানে?” রাখাল বুঝলো, কাকা দোতলা বাড়ি দেখাচ্ছে। তাই সে কোন কথা বলল না। এর বহুদিন পর রাখালও নিজের চেষ্টায় ছোটখাট একটা দোতলা বাড়ি তৈরি করল। তারপর ছাদে উঠে ডাকতে লাগল, “কাকা কাকা, সে বছর আমায় ডেকেছিলে কেন?”

ঠাট্টাও বোঝ না?

Bookmark

Share

গোপালের একবার পেটে ব্যথা হয়েছে। তাই সে বলল, “হে মা কালী, আমার পেটের ব্যথা ভাল করে দাও; তোমায় পাঁচশিকের পূজো দেব” হঠাৎ ব্যথা কমে যাওয়ায় সে বলে উঠলো, “পূজো না হাতি দেব। এই দেখ না, আমার ব্যথা অমনি সেরে গেল” একথা বলার পরই আবার ব্যথা চাড়া দিয়ে উঠলো। গোপাল এবার বলল, “হে মা কালী, তুমি ঠাট্টাও বোঝ না?”